Sanjit Debnath
writing by_ Sanjit Debnath
Fact-checked by_ Solo Researcher
Disclaimer: Stock market investments are subject to market risk.

শেয়ার কেনার আগে কী ধরণের গবেষণা করা উচিত?

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার আগে ভালোভাবে গবেষণা করলে আপনি লাভবান হতে পারেন, সহজ ভাষায় stockmarketwealth


১কোম্পানির অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝুন

আপনি যেই কোম্পানির শেয়ার কিনতে চান, তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না হলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে। তাই এই বিষয়গুলো দেখুন:


কোম্পানির ফিনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ

1.লাভ-ক্ষতির হিসাব:

 কোম্পানি নিয়মিত লাভ করছে কি না, সেটা বোঝা জরুরি।

2.ঋণের পরিমাণ:

খুব বেশি ঋণ থাকলে ভবিষ্যতে কোম্পানি চাপের মুখে পড়তে পারে।

3.ডিভিডেন্ড দেয় কি না:

কিছু কোম্পানি লাভের অংশ বিনিয়োগকারীদের দেয়। নিয়মিত ডিভিডেন্ড দেওয়া মানে কোম্পানির আর্থিক অবস্থান ভালো।


সহজ টিপস: বড়, দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো সাধারণত নিরাপদ বিনিয়োগ হতে পারে।


২. শেয়ারের দাম ও ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করুন

দামের ইতিহাস ও চার্ট অ্যানালাইসিস

  • দামের ইতিহাস দেখুন: কয়েক মাস বা বছরের গ্রাফ দেখে বুঝুন, দাম কীভাবে ওঠানামা করছে।
  • গড় দাম (Moving Average): ৫০ দিন বা ২০০ দিনের গড় দাম কেমন চলছে, সেটা দেখলে শেয়ারের ট্রেন্ড বোঝা সহজ হয়।
  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: শেয়ারের দাম সাধারণত একটি নির্দিষ্ট স্তরে গিয়ে থেমে যায় বা বাড়তে শুরু করে।

৩. কোম্পানির খবর ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানুন

নতুন আপডেট ও ইন্ডাস্ট্রি নিউজ

  • নতুন চুক্তি বা পণ্য: কোম্পানি বড় চুক্তি করলে বা নতুন পণ্য বাজারে আনলে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে।
  • ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন: অভিজ্ঞ নেতৃত্ব কোম্পানিকে আরও ভালো দিকে নিয়ে যেতে পারে।
  • আইনি বা রেগুলেটরি সমস্যা: কোনো মামলা বা সরকারি বিধিনিষেধ থাকলে সেটা জানুন, কারণ এগুলো শেয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. বিশ্লেষকদের মতামত ও রেটিং দেখুন


এক্সপার্ট অ্যানালাইসিস ও টার্গেট প্রাইস

  • রেটিং বিশ্লেষণ: অনেক বিশ্লেষক যদি "Buy" বলেন, তাহলে কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে।
  • টার্গেট প্রাইস: বিশ্লেষকরা প্রায়ই বলেন, এক বছরের মধ্যে শেয়ারের দাম কত হতে পারে। এটা দেখলে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

৫.আপনার বিনিয়োগের লক্ষ্য ও ঝুঁকি বিবেচনা করুন

লং-টার্ম বনাম শর্ট-টার্ম স্ট্র্যাটেজি

  • কতদিন ধরে রাখবেন? যদি আপনি দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেন, তাহলে ছোটখাটো দাম পড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে ভবিষ্যতের দিকে তাকান।
  • ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা: বড় লাভের আশায় বেশি ঝুঁকি নিতে চান, নাকি কম ঝুঁকিতে ধীরগতিতে লাভ করবেন — এটা শুরুতেই ভাবা দরকার।
  • ডাইভার্সিফিকেশন (Diversification): সব টাকা এক শেয়ারে না লাগিয়ে, কয়েকটা ভালো কোম্পানিতে ভাগ করে দিন। এতে ঝুঁকি কমবে।


উপসংহার

শেয়ার কেনার আগে ভালোভাবে গবেষণা করলে আপনার বিনিয়োগ আরও নিরাপদ হবে। কোম্পানির অর্থনৈতিক অবস্থা, শেয়ারের দাম ও ট্রেন্ড, খবর ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশ্লেষকদের মতামত, আর নিজের ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা — এই বিষয়গুলো বুঝলে আপনি অনেক আত্মবিশ্বাসের সাথে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

শেয়ারবাজারে ধৈর্য ও জ্ঞান থাকলে সফল হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। তাই সময় নিয়ে শিখুন, গবেষণা করুন, তারপর বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন!


দাবিত্যাগ (Disclaimer): 

এই ব্লগে প্রকাশিত সকল তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও সাধারণ তথ্যের জন্য প্রদান করা হয়েছে। আমরা তথ্যের যথাসম্ভব নির্ভুলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি, তবে এটি বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে একজন পেশাদার পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলুন।