Sanjit Debnath
writing by_ Sanjit Debnath
Fact-checked by_ Solo Researcher
Disclaimer: Stock market investments are subject to market risk.

Types of Investment in Stock Market | শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রকারভেদ

বিনিয়োগের বিভিন্ন ধরন আছে—আপনি কি জানেন? দেখে নিন StockMarketWealth-এ।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রকারভেদ

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত, যা আপনার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে পারে। এটি শুধুমাত্র সঞ্চয় বা জমা করা অর্থের ওপর নির্ভর না করে বরং সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাড়াতে সাহায্য করে। শেয়ার বাজারে বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগের পদ্ধতি রয়েছে, যা আপনি আপনার লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং সময়সীমার ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন করতে পারেন।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ মানে হলো আপনার জমানো টাকাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি টাকা তৈরি করার চেষ্টা করা। শুধু টাকা জমিয়ে রাখলে যেমন লাভ কম হয়, ঠিক তেমনি সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে সেই টাকা ধীরে ধীরে বড় হতে পারে।

ধরুন, আপনি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে জমাচ্ছেন। এই টাকা যদি শুধু বাসায় রাখেন, তাহলে ১০ বছর পরও তেমন বাড়বে না। কিন্তু আপনি যদি এই টাকা শেয়ার বাজারে ভালোভাবে বিনিয়োগ করেন, তাহলে একই সময়ে টাকাটা অনেক বেশি হতে পারে।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করার বিভিন্ন উপায় আছে

  1. সরাসরি শেয়ার কেনা
    ধরুন আপনি একটি ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনলেন। কোম্পানিটি ভালো করলে শেয়ারের দাম বাড়ে, তখন আপনি লাভে শেয়ার বিক্রি করতে পারেন। এটি একটু ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু লাভও বেশি হতে পারে।

  2. মিউচুয়াল ফান্ড
    যারা শেয়ার বাজার ভালো বোঝেন না, তাদের জন্য এটি সহজ উপায়। এখানে আপনার টাকা একজন বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে। যেমন—আপনি নিজে বাজারে না নেমে একজন অভিজ্ঞ লোকের মাধ্যমে বিনিয়োগ করলেন।

  3. এসআইপি (SIP)
    এতে প্রতি মাসে অল্প অল্প টাকা বিনিয়োগ করা হয়। ধরুন, আপনি প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ করলেন। এতে ঝুঁকি কম হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়া যায়।

  4. ডিভিডেন্ড শেয়ার
    কিছু কোম্পানি লাভ হলে শেয়ারহোল্ডারদের নিয়মিত টাকা দেয়, একে ডিভিডেন্ড বলে। এটি অনেকটা ভাড়ার টাকার মতো—নিয়মিত আয় হয়।

  5. দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ
    যারা ৫–১০ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য বিনিয়োগ করতে চান, তারা ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনে ধরে রাখেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারের মূল্য বাড়ে।

  6. Asset Tokenization (Real World Assets)

    সময় কখনো স্থির থাকে না-যেমন জীবন প্রবাহমান, তেমনই পরিবর্তনশীল বিনিয়োগের জগৎ। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যেমন নতুন সত্যের সন্ধান পায়, তেমনই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমান সময়ে বিনিয়োগ জগতে যে নতুন ধারণাটি গভীরভাবে আলোচিত হচ্ছে, তা হলো Asset Tokenization, অর্থাৎ বাস্তব সম্পদের টোকেনাইজেশন। এক সময় জমি, ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক সম্পত্তি বা সোনার মতো সম্পদ কেবলমাত্র সীমিত মানুষের নাগালে ছিল—কারণ এর জন্য প্রয়োজন হতো বড় পুঁজি, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং জটিল আইনি কাঠামো। কিন্তু আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ব্লকচেইন ব্যবস্থার আবির্ভাবে সেই পুরোনো সীমারেখাগুলো আজ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে।

    “অংশের মধ্যেই সম্পূর্ণের প্রকাশ।” Asset Tokenization ঠিক সেই দর্শনকেই বাস্তব রূপ দেয়। একটি বৃহৎ সম্পদকে যখন অসংখ্য ছোট ডিজিটাল অংশে ভাগ করা হয়, তখন সেই সম্পদের মালিকানা বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি টোকেন হয়ে ওঠে সেই সম্পদের এক একটি সূক্ষ্ম প্রতিনিধিত্ব। এর ফলে অল্প পুঁজিতেও বিনিয়োগ সম্ভব হয়, লেনদেন হয় সহজ ও স্বচ্ছ, আর প্রয়োজনের সময় দ্রুত তারল্য লাভ করা যায়। এখানে মালিকানা আর ভারী নয়—বরং প্রবাহমান।

    আর যেমন আত্মা দেশ-কাল-সীমার ঊর্ধ্বে, তেমনই ডিজিটাল বিনিয়োগ কাঠামোও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে। Asset Tokenization-এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের বিনিয়োগকারী একই বাস্তব সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আজ রিয়েল এস্টেট, সোনা, বন্ড, অবকাঠামো প্রকল্প এমনকি শিল্পকর্মের মতো সম্পদেও এই ধারণার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। যদিও এই ব্যবস্থা এখনো বিকাশের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে, তবুও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ দর্শনে Asset Tokenization এক গভীর ও মৌলিক পরিবর্তনের বাহক হয়ে উঠবে-এমনটাই সময়ের ইঙ্গিত।

আপনি কতটা ঝুঁকি নিতে পারবেন, কতদিনের জন্য বিনিয়োগ করতে চান এবং আপনার লক্ষ্য কী—এই বিষয়গুলো বুঝে বিনিয়োগের উপায় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সঠিকভাবে বুঝে, ধৈর্য ধরে বিনিয়োগ করলে শেয়ার বাজার সাধারণ মানুষের জীবনেও আর্থিক উন্নতি আনতে পারে।


আমরা কি কি জানবো: 

  1. স্টক (Shares or Equities)

  2. মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Funds)

  3. বন্ড (Bonds)

  4. এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETFs)

  5. রিয়েল এস্টেট (Real Estate)

  6. সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতু (Gold & Precious Metals)

  7. কমোডিটি (Commodities)

একজন নতুন বিনিয়োগকারী ছেলের হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া চিত্রিত হয়েছে, যেখানে সে শেয়ার বাজারে পতনের পর হতাশ হয়ে মজারভাবে বলে উঠছে

১. স্টক (Shares or Equities)

স্টক হল কোম্পানির অংশীদারি। যখন আপনি স্টক কিনেন, আপনি সেই কোম্পানির মালিকানা ভাগের অংশীদার হয়ে যান। স্টকগুলি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রচলিত বিনিয়োগের মাধ্যম। স্টকের দাম উর্ধ্বমুখী হলে আপনি লাভ করতে পারেন, তবে দাম নিম্নমুখী হলে ক্ষতিও হতে পারে। স্টক বাজারে বিনিয়োগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে, কিন্তু সঠিক গবেষণার মাধ্যমে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে। 

Share’ বা ‘Equity’ লেখা ।

২. মিউচুয়াল ফান্ড (Mutual Funds)

মিউচুয়াল ফান্ড হল একধরনের বিনিয়োগ ফান্ড, যেখানে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ একত্রিত করে এবং পেশাদার ম্যানেজাররা সেই অর্থ বিভিন্ন শেয়ার, বন্ড এবং অন্যান্য নিরাপত্তা জিনিসপত্রে বিনিয়োগ করেন। এটি নবীন বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ এতে ঝুঁকি কম থাকে এবং বিনিয়োগের বৈচিত্র্য থাকে। মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কিত বিস্তারিত জানুন।>(মিউচুয়াল ফান্ড)

একজন ব্যক্তি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ শুরু করার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রথম ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

৩. বন্ড (Bonds)

বন্ড হল ঋণের একটি প্রকার, যেখানে আপনি সরকার বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ ধার দেন এবং বিনিময়ে তারা আপনাকে সুদ প্রদান করে। বন্ডগুলি সাধারণত স্টকের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ, তবে এর লাভও কম হতে পারে। এটি এক ধরনের স্থিতিশীল এবং কম ঝুঁকির বিনিয়োগ মাধ্যম। আপনি যদি বন্ড সম্পর্কে আরও জানাতে চান, তাহলে এখানে ক্লিক করুন।>(বন্ড)

ছবিটিতে ‘Bond’ ও ‘Safe Investment’ লেখা কিছু কাগজ দেখা যাচ্ছে, যা শেয়ার বাজারের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিকল্প বিনিয়োগ পন্থা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

৪. এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETFs)

এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETFs) হল এক ধরনের ফান্ড যা শেয়ারের মতো স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেড হয়। এটি মিউচুয়াল ফান্ডের মতো, তবে এটি স্টক ট্রেডিংয়ের সুবিধা প্রদান করে। ETFs সাধারণত শেয়ার বাজারের প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে, এবং বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারেন। ETFs নিয়ে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করুন।

ছবিটিতে ‘ETF’ লেখা রয়েছে এবং একটি ছোট বক্সে শেয়ার বাজারের গ্রাফ প্রদর্শিত হয়েছে


৫. রিয়েল এস্টেট (Real Estate)

রিয়েল এস্টেট হল ভূমি বা ভবন সম্পর্কিত বিনিয়োগ। এটি শেয়ার বাজারে সরাসরি না হলেও, স্টক বাজারের মধ্যে রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (REITs) নামক ফান্ডগুলির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যায়। এটি আস্থায়ী এবং ধীর গতির লাভের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পড়ুন।

ছবিটিতে একটি আবাসিক ভবন বা বাড়ি দেখা যাচ্ছে, যা রিয়েল এস্টেট বা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে দেখানো হয়েছে।

৬. সোনা এবং অন্যান্য ধাতু (Gold & Precious Metals)

সোনা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতু একটি ঐতিহ্যবাহী এবং নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম। শেয়ার বাজারে সোনা বা অন্যান্য ধাতুর বিনিয়োগ সাধারণত অর্থনৈতিক সংকট বা মুদ্রাস্ফীতির সময় ভাল লাভ প্রদান করতে পারে।

ছবিটিতে সোনা ও অন্যান্য ধাতু যেমন রূপা ও তামার কয়েন বা বার দেখা যাচ্ছে, যা মূল্যবান ধাতুর বাজার ও বিনিয়োগের ধারণা তুলে ধরছে।


. কমোডিটি (Commodities)

কমোডিটি হলো প্রাকৃতিক বা মৌলিক উপকরণ, যেমন তেল, গ্যাস, শস্য, বা ধাতু। এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু লাভজনক বিনিয়োগ হতে পারে যদি আপনি সঠিক সময়ে বাজারে প্রবেশ করেন।

ছবিটিতে  তেল, গম, কফি ইত্যাদি বিভিন্ন কমোডিটি দেখা যাচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের ওঠানামা ও বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরছে।

উপসংহার

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের জন্য আপনার বিনিয়োগের উদ্দেশ্য, ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা এবং সময়সীমা বিবেচনায় রাখতে হবে। স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড বা অন্যান্য উপকরণ—যে কোনো মাধ্যমই নির্বাচন করুন না কেন, এটি আপনার দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে। সঠিক গবেষণা, পরামর্শ এবং বিনিয়োগের কৌশল আপনাকে সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আরও বিস্তারিত পড়ুন এখানে।



দাবিত্যাগ (Disclaimer): 

এই ব্লগে প্রকাশিত সকল তথ্য শুধুমাত্র শিক্ষামূলক ও সাধারণ তথ্যের জন্য প্রদান করা হয়েছে। আমরা তথ্যের যথাসম্ভব নির্ভুলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি, তবে এটি বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। বিনিয়োগের আগে একজন পেশাদার পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলুন।